এটা ব্যর্থতা নয়, এটা সংগঠিত লুণ্ঠন!
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজের প্রতিবেদন বলছে, মাত্র তিন মাসে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। মার্চ শেষে মোট খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা।
একটু ভাবুন। পাঁচ লাখ আটাশি হাজার কোটি টাকা। এই টাকা কোথায় গেছে? কারা নিয়েছে?
মোট ঋণের ৩২ শতাংশ এখন খেলাপি। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে সেটা ৪৬ শতাংশ। মানে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে প্রতি একশো টাকার ৪৬ টাকাই আর ফেরত আসেনি। আর সেই ব্যাংক বাঁচাতে আবার ঢালা হচ্ছে জনগণের করের টাকা।
শীর্ষ খেলাপিদের তালিকায় এস আলম গ্রুপ, বেক্সিমকোর মতো নাম। এরা হাজার হাজার কোটি টাকা মেরে দিয়েছে। এদের বিরুদ্ধে কিছু মামলা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু যে পরিমাণ সর্বনাশ হয়েছে তার তুলনায় বিচার এখনো কিছুই না।
এই দেশে গরিব মানুষ দশ হাজার টাকা ঋণ খেলাপি হলে কারাগারে যায়। আর ক্ষমতাবান মানুষ হাজার কোটি টাকা মেরে দিলে তার কিছুই হয় না। এটাই এই দেশের নিয়ম হয়ে গেছে।
ব্যাংক ডুবলে চাকরি যাবে সাধারণ মানুষের। সঞ্চয় হারাবে মধ্যবিত্তেরা। কষ্ট পাবে নিম্নআয়ের মানুষ। আর যারা টাকা মেরেছে তারা ততদিনে নিরাপদ জায়গায় চলে যাবে।
জবাবদিহি না হলে এই লুট কখনো থামবে না।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন (মার্চ ২০২৬) এবং প্রথম আলো, ইত্তেফাক, ঢাকা ট্রিবিউন।
এই পোস্টটি সচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে লেখা। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে হেয় করা এর উদ্দেশ্য নয়।